মঙ্গলবার, ৩০ নভেম্বর ২০২১, ০৯:১৭ অপরাহ্ন

শিরোনামঃ
বিশ্বনাথে আ’লীগের পৌর ইউনিয়ন কমিটিতে স্থান পাননি সদ্য বিলুপ্ত কমিটির ৩৯ নেতা স্থান হয়েছে বিএনপি নেতা  জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের ডিন হলেন বিশ্বনাথের ড. রইছ উদ্দিন  বিশ্বনাথে খাজাঞ্চী ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রীতিগঞ্জ বাজারে নির্মাণের দাবি বিশ্বনাথে আমন ধানের বাম্পার ফলন বিশ্বনাথে অসুস্থ আল- ইসলাহ’র মহাসচিবের পাশে আর-রাহমান ট্রাস্টের সভাপতি উৎসব মূখর পরিবেশে চৌহালীতে ৩৫৫ জনের মনোনয়ন পত্র দাখিল বিশ্বনাথে মাঠে মাঠে শীতকালীন সবজি বিশ্বনাথে পুত্রবধূর নির্যাতনে প্রতিবন্ধী ননদ শাশুড়ীসহ আহত- ২ বিশ্বনাথে সম্পত্তি দখলে প্রবাসীকে হত্যার চেষ্টা অবশেষে সিলেটে পরিবহন ধর্মঘট স্থগিত

অবশেষে সিলেটে পরিবহন ধর্মঘট স্থগিত

বিশ্বনাথ (সিলেট) প্রতিনিধি : সিলেটে দিনভর দুর্ভোগের পর রাতে ধর্মঘট স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন।
সিলেট বিভাগীয় কমিশনারের সাথে বৈঠক শেষে রাত সাড়ে ৯টার দিকে ধর্মঘট স্থগিতের কথা জানান পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন সিলেট বিভাগীয় কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবু সরকার।
তিনি বলেন, বিভাগীয় কমিশনারের আশ্বাসের ভিত্তিতে আমরা ৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত ধর্মঘট স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এই সময়ের মধ্যে আমাদের দাবি পুরণ না হলে আবার ধর্মঘট ডাকা হবে।
সোমবার সন্ধ্যা ৭টায় ফেডারেশন নেতৃবৃন্দের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসেন সিলেটের নতুন বিভাগীয় কমিশনার মো. খলিলুর রহমান। এতে প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক শেষে ধর্মঘট স্থগিতের ঘোষণা দেন আবু সরকার। তিনি বলেন, আমাদের ৫ দফা দাবি বাস্তবায়নে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন প্রশাসনের কর্মকর্তারা।
আমরা তাদের উপর বিশ্বাস রেখে ধর্মঘট স্থগিত করেছি।
এরআগে রোববার (২১ নভেম্বর) বিকেলে নগরীর দক্ষিণ সুরমাস্থ সিলেট জেলা বাস মিনিবাস কোচ মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়নের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় সোমবার থেকে অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘটের সিদ্ধান্ত নেন তারা।
সোমবার সকাল থেকে সিলেটে শুরু হয় অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট। ধর্মঘটের কারণে সকাল থেকে পুরো সিলেট বিভাগে বন্ধ ছিলো বাস ট্রাক, অটোরিকশাসহ বেশিলবাগ পরিবহন।
নগরের বিভিন্ন সড়কে অবস্থান নিয়ে ব্যক্তিগত গাড়ি চলাচলেও বাধা দেয় পরিবহন শ্রমিকরা। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা। বিশেষত এসএসসি পরীক্ষার্থীদের দুর্ভোগ পোহাতে হয় সবচেয়ে বেশি। হেঁটেই অনেককে পরীক্ষাকেন্দ্রে যেতে হয়।
সোমবার বেলা ২টার দিকে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের দক্ষিণ সুরমা এলাকার তেতলিতে রাস্তায় অবস্থান নেন পরিবহন শ্রমিকরা। এসময় দুপাশে আটকা পড়ে মাইক্রোকবাসসহ অনেক ব্যক্তিগত গাড়ি।
পরিবহন শ্রমিকরা লোকজনকে গাড়ি থেকে নামিয়ে দিয়ে পায়ে হেঁটে গন্তব্যে যেতে বাধ্য করেন। অনেককে ৮-১০ কিলোমিটার পায়ে হেঁটে সিলেট নগরীতে আসতে দেখা যায়। এ ক্ষেত্রে বেশি ভোগান্তিতে পড়েন বৃদ্ধ মানুষ, নারী ও শিশুরা।
এর আগে সিলেটে সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী ও প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে ২১ নভেম্বর পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়ে স্মারকলিপি প্রদান করেছিলেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন সিলেট বিভাগীয় কমিটির।
সেই সময় শেষ হয় রোববার। কিন্তু তাদের ৫ দফা দাবি আদায় হয়নি বলে জানিয়েছেন পরিবহন শ্রমিক নেতৃবৃন্দ। ফলে সোমবার থেকে কঠোর আন্দোলনে নেমেছেন তারা। সোমবার ভোর ৬টা থেকে সিলেট বিভাগজুড়ে কোনো ধরনের গাড়ি চলতে দিচ্ছেন না পরিবহন শ্রমিকরা।
শ্রমিকদের দাবিগুলো হচ্ছে- সিলেট জেলা অটোটেম্পু, অটোরিকশা চালক শ্রমিক জোট (রেজি নং: ২০৯৭)-এর ত্রি-বার্ষিক নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা, ‘প্রহসনের নির্বাচন’ ও ‘বিনা প্রতিদ্ধন্ধিতায়’ ঘোষিত কমিটি বাতিল করা ও মনোনয়ন ফি বাবত আদায়কৃত সকল টাকা ফেরত প্রদান, সিলেটের আঞ্চলিক শ্রম দফতরের উপপরিচালককে প্রত্যাহার, সিলেট জেলা বাস মিনিবাস কোচ মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়ন (রেজি নং: বি-১৪১৮) নেতৃবৃন্দের উপর দায়েরকৃত মামলাসমূহ প্রত্যাহার, ট্রাফিক পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশের সকল প্রকার হয়রানি বন্ধ, মেয়াদ উত্তীর্ণ শেরপুর, শেওলা, লামাকাজী, শাহপরাণ ও ফেঞ্চুগঞ্জ সেতু থেকে টোল আদায় বন্ধ এবং চৌহাট্টাসহ নগরীর বিভিন্ন স্থানে কার, মাইক্রোবাস, লেগুনা, সিএনজি অটোরিকশসহ সকল প্রকার গাড়ির পার্কিং ব্যবস্থা করা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

© All rights reserved